শেখর দেব


পাপড়ি পাপড়ি

চোখের ভেতর জাগে দুর্বিনীত আলো। চারিদিকে ঘুরি তীব্র মায়ার মাঝে।
গোলাপের ছড়ানো পাপড়ি জোড়া লাগানোর আশায় যতোবার গিয়েছি
তোমার কাছে। বর্ণিল হাসিতে উড়িয়ে দিলে আকাশে। পাপড়ি মানে
জেনেছি বিনিদ্র রজনীর স্বপ্ন। যার রয়েছে দীর্ঘ অনুরাগের গোপন ভাষা।
যে ভাষা আজো দ্বিধায় বলা হয়নি ঠিক চিন্তার অবিকল। একবার সুন্দর
সফেদ গোলাপ তার সব মায়া নিয়ে শিখিয়েছে ভালোবাসার বিন্দু-বিসর্গ।

অপূর্ব ঘোরের মাঝে কেটে গেলে বেলা ভুলে যাই ফুলের অপূর্ব সুরভি।
শুধু সমুদ্র বিশাল। লোনা লোনা খেলা যতো জেগে ওঠে অপার মহিমায় ।
বাঁকে বাঁকে বাজে বাঁশি, সুরের সমাধি। আলো তার প্রকট উজ্জ্বল আশা।

সমুদ্র মন্থনের পর উঠে আসা যতো সুন্দর তার সব নিয়ে গেলে তুমি।
রেখে গেলে শুধু কিছু প্রগাঢ় নীল। সেই নীল পানে নীলকণ্ঠ হয়ে বুঝি
আলোর মাত্রা। যে আলোয় অন্ধ হয়ে মাতাল মত্ততা নিয়ে থাকি ঘোরে।
পৃথিবী অচেনা হয় যদি, তোমারে চিনিতে চিনিতে আবার নীলকণ্ঠ হয়ে
সুরের সিঙ্গায় তুলে আনি সমস্ত গোলাপের পাপড়ি। পাপড়ি পাপড়ি শুধু।
জানো যদি কতো পাপড়িতে হবে এক সুবোধ গোলাপ। বিভেদ ভুলে
একবার বলে যাও হে আলো, তুমি কেন হও কালো বুকের স্নিগ্ধ আবাসে।

বৈকালিক সাধনা

বিকেল মানে বেদনা এরূপ ধারনা নিয়ে ঘুম ভাঙার পর
পশ্চিমের রক্তিম আভায় ডুবে যেতে থাকা সূর্যের সাথে
জমে যায় ভাব ব্যথা সেতো গোধূলি বেলার উড়ে যাওয়া বক।

বিগত এক গোধূলির বুকে জমে আছে আমাদের নির্মোহ প্রেম
আকাশে বিচ্ছুরিত লালের অবিকল রক্তাভ কপোলে খুঁজেছি
সমস্ত দিনের দর্শন স্বর্গের সুষমা বুঝেছি সেই প্রথম।

বাতাসের অন্তর্গত বেদনার ভেতর রাখালের বাঁশির সুরে উড়ে ধূলি
গাঢ় মেঘের ঘুম-চোখ নিয়ে অস্তবেলার স্বপ্নে বিভোর হারিয়ে ফেলি
বৈকালিক বেদনা এখন বিকেল মানে প্রিয়ার সাধনা!

প্রেমসূত্র

বুকে নিরবতার ইতিহাস নিয়ে হাঁটি চরাচরে
চোখ বন্ধ হয়ে আসা শান্তির অনুভূতি যে দিয়েছে
তার কাছে রেখেছি জীবনের আধেক সাধনা
অন্তরের সুরে ভেসে ভেসে শূন্যে মিশে যাবার পাঠশালায়
শিখেছি মৌনজগতের মহাকর্ষ যা নিউটন বুঝেননি তেমন।

দেহে দেহে ঘষা লেগে আগুন ধরেছে যেদিন
সেদিন সভ্যতার সোপানে পা রেখে দেখেছি
পাপ আর পবিত্রতার মাঝে রয়েছে নিবিড় যোগসূত্র
নিরবতার আগুনে যে আপেক্ষিকতা লুকানো তার গুণ নিয়ে
ছড়িয়ে দেই ঘোরের সুন্দরে যা আইনস্টাইন বুঝেননি কিছুই।

আদিম সুর নিয়ে যেই সভ্যতার দিকে যাই
দেখি প্রেম ছাড়া পৃথিবীর কোন ইতিহাস নেই
সব সূত্র এখানে একসূত্রে গাঁথা--যার নাম প্রেমসূত্র।






মন্তব্যসমূহ