১। শিমুল ম মাহমুদঃ
প্রতিদিন একটু একটু করে 'অচেনা যাত্রী' অনন্য হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বোঝা যাচ্ছে অচেনা যাত্রীর কর্ণধারদের বিচক্ষণতা, প্রাজ্ঞতা আর শিল্পবোধের গভীরতা। ভাবছি 'অচেনা যাত্রী' আমার মত একজন রুগ্ন কবিকে কেন এত ভালোবাসে। আমার কবিতা দিয়েই কেনো শুরু করতে হবে? ভালোবাসাকে প্রশ্রয় না দিয়ে লেখা মূল্যায়নের প্রতি 'অচেনা যাত্রী' নির্মোহ থাকবে এই দাবি আজীবন। এই দাবি এই কারণে, 'অচেনা যাত্রী'-র মান ও ক্রমবিকাশ নিয়ে যেন আমরা কেউ প্রশ্নবিদ্ধ না হই। 'অচেনা যাত্রী' নিরপেক্ষ থাকবে, এতে 'অচেনা যাত্রী'-র প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে; আর আস্থাশীল 'অচেনা যাত্রী' হয়ে উঠবে আমাদের চূড়ান্ত অর্জন। তা না হলে আরো আরো ওয়েভ ম্যাগের ভিড়ে 'অচেনা যাত্রী' হারিয়ে যাক বা অর্থহীন হয়ে উঠুক এমন আত্মঘাতি পরিণতি কাম্য নয়। শুভকামনা।
প্রতিদিন একটু একটু করে 'অচেনা যাত্রী' অনন্য হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বোঝা যাচ্ছে অচেনা যাত্রীর কর্ণধারদের বিচক্ষণতা, প্রাজ্ঞতা আর শিল্পবোধের গভীরতা। ভাবছি 'অচেনা যাত্রী' আমার মত একজন রুগ্ন কবিকে কেন এত ভালোবাসে। আমার কবিতা দিয়েই কেনো শুরু করতে হবে? ভালোবাসাকে প্রশ্রয় না দিয়ে লেখা মূল্যায়নের প্রতি 'অচেনা যাত্রী' নির্মোহ থাকবে এই দাবি আজীবন। এই দাবি এই কারণে, 'অচেনা যাত্রী'-র মান ও ক্রমবিকাশ নিয়ে যেন আমরা কেউ প্রশ্নবিদ্ধ না হই। 'অচেনা যাত্রী' নিরপেক্ষ থাকবে, এতে 'অচেনা যাত্রী'-র প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে; আর আস্থাশীল 'অচেনা যাত্রী' হয়ে উঠবে আমাদের চূড়ান্ত অর্জন। তা না হলে আরো আরো ওয়েভ ম্যাগের ভিড়ে 'অচেনা যাত্রী' হারিয়ে যাক বা অর্থহীন হয়ে উঠুক এমন আত্মঘাতি পরিণতি কাম্য নয়। শুভকামনা।
![]() |
কবি শিমুল মাহমুদ |
২। কবি অমিতাভ দাস 'অচেনা যাত্রী' পড়ে লিখছেন--
গত নবম সংখ্যা থেকে 'অচেনা যাত্রী' পড়ছি । ক্রমশ ভালো লাগছে । অমিত এত ভালোবাসে যে আমার লেখা প্রায় প্রতি সংখ্যায় ছাপে । সে কারণে গুণগান করছি তা নয় । গুণগান ওঁর গুণপনার জন্য । ওঁর পত্রিকার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য--
এক, অনুবাদ কবিতা প্রকাশ । বিভিন্ন ভাষার ।
দুই, নতুনদের অধিক সুযোগ দেয় লিখতে ।
তিন, ভালো ভালো বিষয়ে প্রবন্ধ ছাপে ।
চার, অখ্যাত শক্তিশালী কবিকে খুঁজে তাঁকে নিয়ে সংখ্যা প্রকাশ । যেমন-'কবি বিষ্ণু বিশ্বাস সংখ্যা' ।
পাঁচ, অলংকরণ। সৌন্দর্যবোধ আমাকে চমকে দেয় । মুগ্ধ করে ।
ছয়, অমিতের চমৎকার সম্পাদকীয় ।
সাত, অণুগল্প চর্চা ।
ইত্যাদি অনেক কারণে পত্রিকাটি বিরল ।
![]() |
কবি অমিতাভ দাস। কবি বিনয় মজুমদারের বাড়ির সামনে। |
৩।শূদ্রক উপাধ্যায়ঃ~
'অচেনা যাত্রী’-র এবারের সংখ্যাটি পড়লাম। বেশ দারুণ লাগল। সম্পাদকীয়, প্রিয় পাঠ ,নিয়মিত বিভাগ, অনুবাদ কবিতা, কবিতা বিষয়ক গদ্য ও অণুগল্প দিয়ে সাজানো এবারের সংখ্যাটি। কবি তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়ে ও দেবাশিস বিশ্বাস-এর কবিতাগুলি মন ছুঁয়ে গেল। এছাড়াও কবি অমিতাভ দাস ও সৈকত ঘোষের কবিতাগুলি ও ভাল ।
নিয়মিত বিভাগটি মন কেড়ে নিল, শিমুল মাহমুদ,শঙ্কর দেবনাথ,সুবীর সরকার, তানজিন তামান্না, মাসুদার রহমান, উপল বড়ুয়া, শামীম সাঈদ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, রোশনি ইসলাম, নাজনীন খলিল, মিলন চট্টোপাধ্যায়, আইরিন সুলতানা, অলক বিশ্বাস -এর কবিতা উল্লেখযোগ্য।
অনুবাদ বিভাগ টি বরাবরই মন কেড়ে নেয়। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। মৈনাক আদক-কে অনেক ধন্যবাদ স্প্যানিশ কবি রাসেন্স দিয়াস -এর কবিতা অনুবাদ করার জন্য।
দেবশ্রী ভট্টাচার্য-র কবিতা বিষয়ক গদ্যটা ঠিক মনমতো হল না। " কবিতা নিয়ে লালনমন কী ভাবছে?" দিয়ে শুরু করে গদ্যকার নিজের আত্মস্মৃতিকে তুলে ধরেছেন যা আমার কাছে "কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি " শিরোনামে "কবিতা ও আমি" বলে মনে হল। নামকরণটা "কবিতা ও আমি " হলে ভালো লাগতো। তবে গদ্যকারের ছোটো বেলায় লেখা ছড়াটি আমার দারুণ লাগল।
“কুচুর মুচুর ভেলপুরি,
কপিল দেবের সেঞ্চুরি।
তেড়ে মেড়ে তক্কা,
তেন্দুলকারের ছক্কা”।
প্রেমিক না -পাওয়াটা গদ্যকারের ব্যর্থতা। কিন্তু কবিতা লেখার জন্য প্রেমিকের প্রয়োজন কি আছে ? "এখন কবিতা লেখার জন্য প্রেমিক জোটাই কোত্থেকে"। কবিতা তো অনুভব থেকে আসে । কষ্ট থেকে আসে। আনন্দ থেকে আসে। যাইহোক, পড়ে ভালো লাগল।
অন্তরা চৌধুরী’র গল্পটার মধ্যে একটা রহস্য ও দেহতত্ত্ব রয়েছে, কিন্তু নামকরণটা ঠিক মনঃপুত হল না। মনে হচ্ছিল একটা ডাইরি পড়ে শোনাতে শোনাতে গল্পে ঢুকে গেলেন। সঞ্জীবের চরিত্র টা ঠিক ফুটে উঠল না। হাত নাড়ানো ও ফোন করাটা কি বৃন্দা ট্রেনের সীটে বসে ঝাঁকুনি খেতে খেতে ঘুম ঘোরে স্বপ্ন হারিয়ে গেছিলেন! বাক্য বিন্যাসে আর একটু জোর দেওয়া উচিত। মোটের উপর ভালো হয়েছে।
\
৪। নাজনীন খলিলঃ
কতদিনই-বা হবে! মনে হয় এইতো সেদিন প্রথম লিখা পাঠালাম—‘অচেনা যাত্রী’ -তে। তারপরেরটা শুধুই ক্রমাগত আপন হয়ে ওঠার এক গল্প। আমি লিখলাম। খুব ভাল লাগল সকলের আন্তরিকতা। আপন করে কাছে টেনে নেয়ার অসামান্য সক্ষমতা। একে একে যাত্রীর নতুন /পুরাতন সব যাত্রীরা বন্ধু হয়ে গেল। কেউ এই বাংলার, কেউ-বা ওই বাংলার। আমি বাংলাদেশের হয়েও বাংলাদেশী অনেক কবির সাথে ‘অচেনা যাত্রী’-তে লেখার আগে পরিচিত ছিলাম না। এখানে এসে তাদের সাথেও পরিচিত হলাম। যেমন মাসুদার রহমান অথবা শিমুল মাহমুদ। এমন আরো অনেকের সাথে।
৪। নাজনীন খলিলঃ
কতদিনই-বা হবে! মনে হয় এইতো সেদিন প্রথম লিখা পাঠালাম—‘অচেনা যাত্রী’ -তে। তারপরেরটা শুধুই ক্রমাগত আপন হয়ে ওঠার এক গল্প। আমি লিখলাম। খুব ভাল লাগল সকলের আন্তরিকতা। আপন করে কাছে টেনে নেয়ার অসামান্য সক্ষমতা। একে একে যাত্রীর নতুন /পুরাতন সব যাত্রীরা বন্ধু হয়ে গেল। কেউ এই বাংলার, কেউ-বা ওই বাংলার। আমি বাংলাদেশের হয়েও বাংলাদেশী অনেক কবির সাথে ‘অচেনা যাত্রী’-তে লেখার আগে পরিচিত ছিলাম না। এখানে এসে তাদের সাথেও পরিচিত হলাম। যেমন মাসুদার রহমান অথবা শিমুল মাহমুদ। এমন আরো অনেকের সাথে।
'অচেনা যাত্রী' আজ আমার কাছে শুধুমাত্র লেখার একটা জায়গা নয়। ‘অচেনা যাত্রী’ পরিবার হয়ে উঠেছে নিজের পরিবারের মতো। নিজেকে এই পরিবারের একজন ভাবতে গর্ববোধ করি। কোনো সহযোগিতা করতে পারলে তৃপ্ত হই।
সব থেকে ভাল দিক হলো ম্যাগাজিনটির সর্বাঙ্গিন সৌন্দর্য ,সৌকর্য বৃদ্ধির জন্য এর কলাকুশলিদের আন্তরিক প্রচেষ্টা । প্রধান সম্পাদক আমিত কুমার বিশ্বাস, কিংবা সুবীর সরকার অথবা বাকী যারা আছেন তমাল, আইরিন, শূদ্রক, মৈনাক- এমন আরো অনেকে --- সকলেই খুব নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
আমি বিশ্বাস করি 'অচেনা যাত্রী' আরো বহুদূর এগিয়ে যাবে। উত্তরোত্তর আরো অনেক বেশি শ্রীবৃদ্ধি হবে। কারণ আমরা সবাই এর সাথে আছি। আমাদের সাহায্য -সহযোগিতার হাত বাড়ানো আছে, থাকবে।
৫। মৈনাক আদকঃ
অচেনা যাত্রী'র সাথে আমার পরিচয় বেশিদিনের নয়, 'অচেনা যাত্রী'র অষ্টম সংখ্যাটি পড়েই এত ভাল লেগে
যায়, তারপর থেকে এবারের উৎসব সংখ্যা পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যাই
পড়ি আর মুগ্ধ হই। তাই 'অচেনা যাত্রী'র কাছে প্রত্যাশাও বেড়ে যাচ্ছে পাঠকের, আমাদের
সকলের।
'অচেনা যাত্রী'তে অনেক নতুন, অচেনা এবং বিস্মৃতপ্রায় অথচ আশ্চর্য
কবির লেখা পড়ি। বিষ্ণু বিশ্বাস সংখ্যাটি তার সর্বোত্তম
উদাহরণ। এবারের উৎসব সংখ্যাতেও এমন কয়েকজন কবির কবিতা পড়লাম যাদের
লেখা এর আগে কখনো পড়িনি। তবু বিশেষ করে ভালো লাগে শিমুল মাহমুদ, সুবীর সরকার, নাজনীন খলিল, মাসুদার রহমান, শঙ্কর দেবনাথের কবিতা। 'প্রিয়পাঠ' বিভাগটি মুগ্ধ করে,
কবি অমিতাভ দাস, তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়,
দেবাশিস বিশ্বাস, শূদ্রক উপাধ্যায় -- প্রত্যেকের
লেখাই মন ছুঁয়ে যায়। অলংকরণও ভীষণরকম
চমকে দেয়।
'অচেনা যাত্রী' বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিক আন্তর্জাল
পত্রিকায় উন্নীত হোক, সর্বতোভাবে সাহায্য করবো।
৬।
গ্লাদিস ওরতিস বোগোতা, কলম্বিয়া-র প্রথম সারির কবিঃ
'অচেনা যাত্রী'র সম্পাদক ও অনুবাদককে অনেক ধন্যবাদ রান্সেসের কবিতা
বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার জন্য। 'অচেনা যাত্রী'র সকলের প্রতি শুভেচ্ছা রইল।
৭। আনা
সুরিয়ানো, পেরু-র প্রথম সারির কবিঃ
অসাধারণ অলংকরণ এবং
উপস্থাপনা।
৮। ফ্যানি গোনসালেস,দোমিনিকান রিপাবলিক- এর জনৈক পাঠকঃ
আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি রান্সেস বাংলা ভাষায় অনুদিত হলেন, এ আমাদের পরম প্রাপ্তি। ধন্যবাদ নয়, 'অচেনা যাত্রী' পরিবারের জন্য আমার তরফ থেকে রইল মেরেঙ্গে লোকগানের মূর্চ্ছনা আর অনেক শুভকামনা।
৯। রান্সেস দিয়াস,দোমিনিকান রিপাবলিক- এর প্রথম সারির কবিঃ
'অচেনা যাত্রী'র সম্পাদককে অনেক ধন্যবাদ আমার কবিতা, আমার দেশের কবিতা বাংলা ভাষায় অনুবাদ প্রকাশ করার জন্য। কয়েক হাজার মাইল দূরে বসেও 'অচেনা যাত্রী'র উৎসব সংখ্যার কলরব অনুভব করতে পারছি। 'অচেনা যাত্রী' পরিবারের সকলের প্রতি শুভেচ্ছা রইল।
শঙ্কর দেবনাথ
অমিত কুমার বিশ্বাস সম্পাদিত 'অচেনা যাত্রী'- অনলাইন পত্রিকার
বেশ কয়েকটি সংখ্যা ইতিমধ্যে পড়ার সুযোাগ পেয়েছি। বিশেষত 'বিষ্ণু বিশ্বাস সংখ্যা',' অণুগল্প
সংখ্যা' এবং তৎপরবর্তী সংখ্যাগুলো। সম্পাদকের লেখা নির্বাচন, বিষয় ভাবনার
অভিনবত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। নাড়া দিয়েছে অচেনা
যাত্রীর সাহিত্যসম্ভার। প্রকৃত পক্ষে অচেনা যাত্রী যে অভিনব
সম্ভার নিয়ে প্রতিবার পাঠকের সামনে এসে পাঠককে মুগ্ধতায় নাইয়ে দেয়, আর ভালবাসার মায়াকাজল পরিয়ে দেয় তাতে সে আর অচেনা যাত্রী
থাকে না। বরং হয়ে ওঠে সাহিত্যপ্রীত মননের পরম
প্রিয় চেনা বন্ধু। সম্পাদককে ধন্যবাদ,আর অচেনা যাত্রীকে বন্ধুত্বের অঙ্গীকার জানাই অকৃপন অন্তরে।
মন্তব্যসমূহ