
Chnuiye Pora Andhokare Raktakto Murchhona
A collection of Bengali poems by
A Group of Spanish poets
Translated by Moinak Adak
Rs. 100/- (Hard Copy)
গ্রন্থস্বত্ব: লেখক
প্রথম প্রকাশ(অনলাইন): চৈত্র, ১৪২১ (মার্চ ২৪,২০১৫)
প্রকাশকঃ ‘অচেনা যাত্রী’র পক্ষে সুমনা
বৈরাগী বিশ্বাস, ‘অখিল-স্মৃতি’ গ্রন্থাগার, নিত্যানন্দ মনোরমা ভবন, নেতাজি
সুভাষচন্দ্র বসু সরণি, সুভাষনগর, বনগাঁ,
উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, পিনকোড-৭৪৩২৩৫
মুঠোফোনঃ +৯১ ৮১৫৯০৯৩৭১০
প্রচ্ছদঃ অমিতকুমার বিশ্বাস
বর্ণস্থাপন: কুমারেশ পাত্র
মূল্যঃএকশো টাকা ( হার্ড কপি)
উৎসর্গ
বাবা ও মা-কে
কবি: ইভান রোদরিগেস চাভেস
দেশ: পেরু
পরিচিতি: উনিভেরসিদাদ রিকার্দো পালমা'র রেক্টর ও আসামব্লেয়া নাশিওনাল দে রেক্তোরেস'র সভাপতি ইভান রোদরিগেস চাভেস কবি, প্রাবন্ধিক এবং পেরুভিয়ান সাহিত্য ও আইনতত্ত্বের অধ্যাপক। কবিতা ও প্রবন্ধ নিয়ে এখনো অবধি তাঁর ২০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই: লিতেরাতুরা পেরুয়ানা-তেওরিয়া-ইসতোরিয়া-পেদাগোথিয়া (১৯৯১), মেলোদিয়া দে লা নোস্তালখিয়া (১৯৯৯), লিতেরাতুরা ই দেরেচো (২০০১), আমারত্রোপেয়া (২০০৫)।
যমজ (মূল কবিতা: সিয়ামেসেস)
তোমাকে আমার প্রয়োজন
শত্রুতার অঙ্ক
চারটে অস্ত্রোপচারকে নামিয়ে আনে ত্রিমাত্রিক ত্রিভুজে
আর বেরিয়ে আসে
আমার পঞ্চাশ শতাংশ দ্বিপদ-রাশিকের চতুর্ভূজ শিকড় থেকে।
তোমাকে আমার প্রয়োজন
চারটে অপরিহার্য বিন্দু
এখনো উত্তরমুখো হয়নি
যেমন যায় আনন্দের নান্দনিক জন্মভূমি
তোমাকে আমার প্রয়োজন
যেমন তুমি আর আমি
একই হৃদয়ে দুই আধার।
তোমাকে আমার অপরিহার্য প্রয়োজন
অন্তহীন অনুসন্ধানে
কোমল উপপাদ্য (মূল কবিতা: তেওরেমা সেন্তিমেন্তাল)
জন্ম তার অসম্ভবের নৌকায়
শূন্যের কোলে
যখন বিশ্বাস
শীতের শুকনো পাতার মতো
ঝরে গেছে আশার আঁচল থেকে।
ভবিষ্যৎবাণীও
ব্যয়বহুল
স্বপ্নদেশের
অনি:শেষ ভালবাসার।
তোমার হৃদয়ে অনেকদিনের
বসবাস আশার।
জ্যামিতির রাণী তুমি
পরিবর্তন করেছিলে উপপাদ্য
পরিমিত করেছিলে ত্রিভুজের
সমকেন্দ্রী দুই বিন্দুতে।
শিক্ষা (মূল কবিতা: আপ্রেন্দিসাখে)
তোমার বাড়ি আসার আগে
তোমার হৃদয়ে এসে পড়েছি।
এ তো নয় সমুদ্র বা মাটি
নয় স্বর্গ বা নরক
আগে বা পরেও নয়
তোমার সাথেই
শিখেছি
ভালবাসার সাথে কেমন করে দেখা করতে হয়,
আকাশ...
অনুপস্থিতি (মূল কবিতা: আউসেনসিয়া)
সকালে উঠি আগের মতোই একই সময়ে
ক্লান্তিহীন কাজে ডুবে থাকি সারাদিন
নির্দেশমাফিক ফাইল বয়ে নিয়ে যাই পায়ে পায়ে।
তুমি নেই
সময়ও আমাকে ছেড়ে চলে যায় যে আগে আমায় চোখে চোখে হারাতো।
কবি: দিয়েগো দামিয়েন ওইয়েরো
দেশ: আর্হেন্তিনা
ভাষা: স্প্যানিশ

পরিচিতি: শূন্য দশকের আর্হেন্তিনীয় কবি দিয়েগো দামিয়েন ওইয়েরোর জন্ম ১৯৮১ সালে রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে। পেশায় অভিনেতা, চিত্তনাট্যকার, পরিচালক,গল্পকার এবং ভাস্কর। 'এল দোক্তোর ক্লোক' ছদ্মনামে ইতিমধ্যে আর্হেন্তিনীয় কল্পবিজ্ঞান আর রহস্যরোমাঞ্চমূলক ছবিতে অভিনয় করেছেন, কাজ করছেন নাটকেও। আর্হেন্তিনায় বিভিন্ন সাহিত্যসভায় কবিতাপাঠ করেন। আন্তর্জাতিক আন্তর্জাল পত্রিকা 'লাকবেরনা'র সম্পাদক, বর্তমানে 'লা কাসা দে মুন্দো ক্লোক' নামক রহস্যরোমাঞ্চমূলক সাহিত্যপত্রের সম্পাদনা করেন।
পরিচিতি: শূন্য দশকের আর্হেন্তিনীয় কবি দিয়েগো দামিয়েন ওইয়েরোর জন্ম ১৯৮১ সালে রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে। পেশায় অভিনেতা, চিত্তনাট্যকার, পরিচালক,গল্পকার এবং ভাস্কর। 'এল দোক্তোর ক্লোক' ছদ্মনামে ইতিমধ্যে আর্হেন্তিনীয় কল্পবিজ্ঞান আর রহস্যরোমাঞ্চমূলক ছবিতে অভিনয় করেছেন, কাজ করছেন নাটকেও। আর্হেন্তিনায় বিভিন্ন সাহিত্যসভায় কবিতাপাঠ করেন। আন্তর্জাতিক আন্তর্জাল পত্রিকা 'লাকবেরনা'র সম্পাদক, বর্তমানে 'লা কাসা দে মুন্দো ক্লোক' নামক রহস্যরোমাঞ্চমূলক সাহিত্যপত্রের সম্পাদনা করেন।
ক্রাকেন (মূল কবিতা: ক্রাকেন)
প্রবেশপথ
এই অন্ধকার ক্ষুধা
যে ক্ষইয়ে দেয় মন
সমুদ্রের গভীরে
চাঁদ ডাকাডাকি করে তোমার দরজায়
ওখানে সে ভেসে যায় মৃতদেহের স্তূপ পেরিয়ে
অনন্তকালকে টেনে নিয়ে আসে
জাহান্নাম থেকে তোমার দিকে
তরঙ্গ
থাবায় আলিঙ্গনাবদ্ধ সময়
যখন
তোমার দৃষ্টিতে পাচিত হয়ে যায় ওরা
সেই দিন
বেঁচে থাক তোমার অ্যালার্মঘড়ি
ঢেকে ফালো আগুনের আদ্রতায়
কেননা, এখন খাবার সময়
(ক্রাকেন এক কাল্পনিক পশু, আর্হেন্তিনীয় পুরাণ মতে, ক্রাকেন সমুদ্রের নরকে রাজত্ব করত)
দড়ি (মূল কবিতা: লা কুয়েরদা)
দড়ি, রক্তের ব্রার অস্তিত্বের শস্য
কে যেন বলেছিল, অন্ধকার আমার ছাত্রী
মেঘ আর রাস্তা আমাকে টেনে আনে তোমার মৃত্যুর দিকে
আমার খাদ্য পরিবর্তনের জন্য
শিরার শিশিরপুঞ্জ হঠাৎ বিস্ফোরিত
যখন টর্চের আলোয় ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা
যখন এই ধারালো হিমশৈল হাড়পাঁজরা ভেদ করে যায়
ভেঙে দেয় আমার নীরবতা পাহাড়িয়া প্রতিধ্বনিতে
শেষের এই শব্দমালা
ওরাই আমার মনের রাস্তা
আর আমার শরীর নিঃসঙ্গতাকে শূন্য করে চলে যায়
রয়ে যায় হাতের ভাঁজে
আনন্দ (মূল কবিতা: এল প্লাসের)
পরিষ্কার করা হচ্ছে
জানালার ঘাম
অস্তিত্বের মলিন মুখ দিয়ে
যখন
তুমি নাচো শয়তানের সাথে
আধো অন্ধকারে
সাইউমব্রের অনাসৃষ্টি (মূল কবিতা: লা দেস্তক্রেয়াসিয়ন দেল সাইউমব্রে)
শব্দের গন্ধ
জেগে ওঠে অন্ধকারের নৈঃশব্দ
যেখানে শব্দ
অতিক্রম করে ক্লাইম্যাক্স
মৃত্যুর উদরে
ঈশ্বর ভার্চুয়াল পুরুষ
স্পর্শ করে রক্ত
সৃষ্টি করে
বিস্ফোরণের অ্যান্ড্রয়েড
তারপর
চিন্তনকে সংযুক্ত করে
মহাশূন্য বিভাজনে
দৃষ্টি (মূল কবিতা: মিরাদাস)
চোখ
ভেঙেচুরে যায় জানালা থেকে জানালায়
আনত
বাচ্চা মেয়েটাকে মেপে নেয় আপাদমস্তক
জলের ফোঁটা
পিছলে যায় পাখির
মার্বেলসম ডানায়
সুবাস ছড়ায় তোর চুলে
আর আমি অন্ধকারের ভিড়ে হারিয়ে যাই
উড্ডীয়মান মন
নীরব মৃত্যুর পুনরুত্থান (মূল কবিতা: রেসুর্রেকসিয়ন দে লা মুয়ের্তে সিলেনসিয়োসা)
বেঁচে আছে
কণ্ঠহীন মানুষ
খুঁজে বেড়ায় ছাত্রদের হাড়গোড়
পার্থিব যন্ত্রপাতির মাঝে
বিষ প্রয়োগ করে
শয়তানের হাতে সমাধিস্ত আলো
যখন শুরু হয়
ডাইনিদের বহ্নুত্সব
কে যেন বলল
সময়ের বর্মে সজ্জিত রক্ত
গিলে খায় অন্ধকার
ঝড়ের অবয়ব
যেখানে
আর্তনাদ পূতিগন্ধময়
তড়িতাহত জীবকোষ
রাতের বিষদাঁতে
তাঙ্কা (মূল কবিতা: তাঙ্কা)
নদীর পাপড়ি
চাঁদ জাগিয়ে তোলে
সুবাসহীন গ্রীষ্মের
শয়তানকে
হাইকু (মূল কবিতা: হাইকু)
আত্মা
ঠান্ডা মহাসাগর
কবি: আলফ্রেদো পেরেস আলেনকার্ত
দেশ: স্পেন
পরিচিতিঃ কবি, প্রাবন্ধিক ও স্পেনের সালামানকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'কাজের অধিকার' বিষয়ের অধ্যাপক। জন্ম লাতিন আমেরিকার পেরুর পুয়ের্তো মালদোনাদো শহরে ১৯৬২ সালে। ১৯৮৭ থেকে সালামানকায় অধ্যাপনা। ২০০৫ এ নির্বাচিত হন 'আকাদেমিয়া কাস্তেইয়ানা' ও 'লেওনেসা দে লা পোয়েসিয়া'র সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ থেকে ইবেরো-আমেরিকান কবিদের সভার সংগঠক, বাৎসরিক ফুন্দাসিয়ন দে সালামানকা সিউদাদ দে কুলতুরা' উৎসবের পরিচালক। অতিসম্প্রতি কারাকাস শহরে আন্তর্জাতিক কবিতা পুরস্কার 'মেদাইয়া ভিসেন্তে খেরবাসি'তে ভূষিত হয়েছেন, ২০০৯ এ পেয়েছেন 'হুয়ান দে বানিও' কবিতা পুরস্কার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতার বই: ' বানানের ইচ্ছা' (২০০১), 'মা সেলভা' (২০০২), 'আমাপারো বিদোনের তৃতীয় পুত্রের প্রতি অর্ঘ' (২০০৩), 'আত্মার চামড়ায় ঢাকা পাখি' ( ২০০৬), 'কর্মরত মানুষ' ( ২০০৭), 'আত্মার খ্রীষ্ট' (২০০৯), 'সাভিয়া আন্তিপোদিয়ান' (২০০৯), 'শোনো হে ভাইসকল'(২০০৯)। তাঁর কবিতা অনুদিত হয়েছে পোর্তুগিজ, জার্মান, ইংরাজী, রুশ, ইতালিয়, জাপানিজ, হিব্রু, বুলগেরিয়, এস্তোনিয়, ভিয়েতনামিজ, কোরিয়ান, রুমানিয় ও ইন্দোনেশিয় ভাষায়। এই প্রথম অনুদিত হল বাংলায়। কবির লেখা নিয়ে একটি দীর্ঘ বই লিখেছেন ভেনেসুয়েলার লেখক এনরিকে ভিলোরিয়া, বইটির নাম 'পেরেস আলেনকার্ত: আশ্চর্য কবিতা'।
জোনাকি (মূল কবিতা: লুসিয়েরনাগাস)
জাদুর কাছে গিয়েছিলাম।
দেখেছি রাস্তার আলো গোধূলিমাখা,
প্রদীপ্ত শিখা যেন ডানাওয়ালা
আগুন।
স্ফুলিঙ্গসম, উড়ন্ত উপহার
আমার দৃষ্টিপথে।
ঘটেছিল আমার শৈশবে।
ঘটেছিল যখন আশ্চর্য জাদুর ঢেউ উঠত
জোনাকির আলোয়।
পূর্বাভাস (মূল কবিতা: প্রেসাখিওস)
দূরবর্তী,
কম্পমান ডালপালার উচ্চতায়
হামিংবার্ডের নিঃশব্দ উড়ানে,
জানায় তার সু-সংবাদ
পূর্বাভাস।
এভাবেই কিছু পাক খায়
ধোঁয়ার মতো যে হাওয়া আর
আছড়ে পড়ে না।
অনন্ত আকাশে
মধু আর ছাইয়ে লেখা
বার্তা পড়ি।
সুদৃঢ় সূর্যোদয়
রাস্তা খুলে দেয় প্রারব্ধ
প্রত্যাবর্তনের জন্য।
আমার শিরায়-শিরায় ওড়ে এখন
হামিংবার্ড।
পবিত্র কর্তব্য (মূল কবিতা: সান্তো ওফিসিও)
ভালবাসাময় চোখ
আর সময়ের জন্য পবিত্র কণ্ঠস্বর।
এভাবেই উপহার বিতরণ,
শহরের মধ্যে
যে
... পথপ্রদর্শকের
মতো...
দর্শকদের মধ্যে দান করি।
কিন্তু সবসময় লুকিয়ে রাখি কিছু সম্পদ
চাই না, ওরা আমাদের টেবিলে আসুক
দুহাত ভরা উপহার নিয়ে টেবিল সাফ করতে।
যখন ওয়াল স্ট্রীট ভেঙে পড়ে (মূল কবিতা: মিয়েন্ত্রাস সে দের্রুম্বা ওয়াল স্ত্রীত্)
আমার কখনো ছিল না
আজও নেই
অর্থপ্রাপ্তির কাজকর্ম
এতটুকুও
আমার ভোগদখলে শুধু
বাতিলপ্রায়
দুই দরজার একটা গাড়ী,
আর সস্তার একটা ফ্ল্যাট
আমার ছোট্ট শহরের
উপকণ্ঠে
স্বীকার করি, দিশেহারা
লাগেনি আমার
যখন সংবাদের শিরোনামে চোখ রাখি:
''নিউ ইয়র্কের শেয়ারবাজারে
কালো সোমবার"।
আর টর্মসের পাড়ে বসে
প্রাতঃরাশ সারি চুপচাপ,
যখন ভেঙে পড়ে
ওয়াল স্ট্রীট।
দারিদ্রের অপমান ( মূল কবিতা: উমিয়াসিয়ন দে লা পোব্রেসা)
(তিন বছরের বাচ্চাছেলে বিক্রি করে আঠা)
তোমার নাম কথা বলে না। বলে তোমার শীতল চাহনি
বলে তোমার প্রসারিত দুহাত; তুমি হারিয়েছো শৈশব
কেননা, দারিদ্রের মোচড় তোমায় ছুঁড়ে ফেলেছে রাস্তায়
যেখানে কর্ণভেদী ধারালো আর ফাঁপা কথামালা।
বলে না তোমার দেশ বা শহর। বলে তোমার ভবিষ্যত রহস্যময়,
বিকিয়ে যাওয়া মাহাত্ম্য বা লজ্জার ওপর নির্ভরশীল
বলে, বেঁচেছিলে তুমি পুড়ন্ত রাস্তার মাঝেও
আর দুর্বল হয়ে পড়েছিলে যদিও আজও তুমি অজেয়।
বলে না তোমার চামড়ার রং। বলে, দুর্ভিক্ষ জন্মাবধি
তোমায় কটূকথা শোনায়, তোমার ছবি বেরোয় না
সোশাল সাইটে, দিন তোমাকে সতর্ক করে দেয়
আর রাত্রি এবং সাঙ্গপাঙ্গরা তোমায় গ্রাস করতে সেখানে ওত পেতে থাকে।
বলে না কোনো রাজনৈতিক বা আধ্যাত্মিক আলোচনা। বলে,
কেউই তোমার জুতো সারায় না, তোমার বিসর্জন
হওয়া উচিত ক্ষুধার বিরক্তিকর চাহনির মতো, বলে কান্না,
দাম্ভিক অবিচার, অন্ধ রাগ; বলে, তোমার জন্য আমার রুটি।
অনাথ ( মূল কবিতা: ওরফানদাদ)
বাবাকে হারানো
যেন চুম্বক হারিয়ে ফেলা
কিন্তু তুমি নও
তাদের একজন যারা পিছনে হাঁটে
যদিও তোমাকে ছুড়ে ফেলে
ভয়াল চাবুক।
বাবাকে হারানো
যেন দুবার পৃথিবীতে আগমন
অভিবাদনরত অনুপস্থিতি
লুকানো
দুহাত মেলে।
কিন্তু তুমিতো
দুঃখপিয়াসী নও:
অভিজ্ঞতাঋদ্ধ
পূর্ণ শৈশবেই
সরল নিষ্পাপ তুমি
পূর্ণবয়সেও।
বাবাকে হারানো
যেন এক আলো হারানো
যার শুরু নেই
শেষও নেই।
(ফ্রঁসোয়া
সিলভেসত্র
দ্য আলেনকারকে)
বাড়ি ফেরা ( মূল কবিতা: ভুয়েলতা আ কাসা)
একটা কুকুর শুঁকেছিল
আগন্তুক আমার পোশাক
দীর্ঘ ভ্রমণের শেষে।
অতীতে ফিরে তাকানো নয়।
গতকাল এসেছি
গ্রামের প্রবেশদ্বারে
কিন্তু কুকুরটা
ছাড়ে না আমায়।
যদিও
ওকে দেখালাম আবেগপ্রবণতা
বা এখানকার ঠাকুর্দার
ছবি।
দুহাত ছড়িয়ে
এই মাটিতে
অতর্কিতে আক্রমণ করল আমায়
অভিবাদনের
শাখাপ্রশাখায়।
আন্তরিকতা ( মূল কবিতা: ওনেস্তিদাদ)
একটি মাকড়সার জাল
ধাবমান,
দিগন্ত আড়াল করার
স্বপ্নপূরণ করছে।
কিছু নোংরা হাত
আর বেশিটাই
অনাগ্রহ।
আর তুমি
খুঁজছো বিতৃষ্ণা আর
ব্রণ অপসারণের উপায়
যারা চাপিয়ে দেয় তাদের পছন্দ-অপছন্দ।
সৎ হওয়ার জন্য
এ সেই দুর্বলতা
যা তোমায় শক্তিশালী করে।
পোস্টার (মূল কবিতা: কার্তেল)
রাস্তায় একটা লোক
পোস্টার দেখায়: "চাকরী নেই
খাবার নেই"।
জবরদখলের সময়, চোখ বন্ধ করে
আর ঠোঁট কামড়ায়
অবিরত।
চেয়ে থাকি চলে যাওয়ার শেষ পর্যন্ত
কেননা,অনেক আগেই
সে ক্লান্ত-বিপর্যস্ত।
তাহলে এবার সাহায্যের হাত বাড়ানো যাক:
এটাই উপস্থাপনযোগ্য।
ভাববাণী ( মূল কবিতা: প্রোফেসিয়া)
সত্য স্পর্শ করুক তোমায়
আগুন যেন না পোড়ায় তোমার হৃদয়
মুখে মুখে প্রচার করো ন্যায়বিচার
কাজের মাধ্যমে যা সবাই দেখবে।
যেমন ধরো, আনন্দমুখরিত হয়ে হলকর্ষণ করো !
বাঁচো ভারহীন দুঃখে কাঁপতে কাঁপতে !
অন্যরা থুতু ছেটায় ঘরের মধ্যে
যখন তুমি ছুটি নাওনা কাজ থেকে
ধুলোর মধ্যে ডুবে যেতে যেতে
স্বাধীনতা যা তুমি খুঁজছো সবার জন্য।
যাও তোমার ঋজুরেখ নির্দিষ্ট আবক্র পথে !
হুররে তোমার অবিস্মরণীয় অপরিহার্য সেবার জন্য !
এভাবেই লাল আকাশের আলোয় হাঁটতে হাঁটতে,
ছড়াতে থাকবে শান্তির শস্যাগার
তাদেরকে যাদের মর্মে কখনো ভালবাসা আঘাত করেনি।
নিবিড় আঁধার (মূল কবিতা: লো মাস ওসকুরো)
সবচেয়ে আঁধার
অন্ধজনের
বর্ণহীন চোখ
দুর্বিপাক
সেইসব লোকের মাঝে
পথ করে চলে
যারা রাস্তায় পা দেয় রোজ
পেটে মোচড় খেতে খেতে ।
অন্ধকার হৃদয়
যেন নিজেকে দেখায়
গ্র্যানাইটসম
অথবা উৎসব
যেখানে অনেক টেবিলে
রুটি আসেনি ।
অন্ধকার ও
জীবনের খেলা খেলবে বলেই
শাখা থেকে
চয়ন করা
ভালবাসার ।
কবি: গ্লাদিস সেপেদা
দেশ: আর্হেন্তিনা
ভাষা: স্প্যানিশ

পরিচিতি: নব্বই দশকের আর্হেন্তিনীয় কবি গ্লাদিস সেপেদা মাদ্রাগোরা ছদ্মনামে স্পেনীয় সাহিত্যজগতে পরিচিত, জন্ম ১৯৬৩ সালে রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে। আজন্ম সাহিত্যই

পরিচিতি: নব্বই দশকের আর্হেন্তিনীয় কবি গ্লাদিস সেপেদা মাদ্রাগোরা ছদ্মনামে স্পেনীয় সাহিত্যজগতে পরিচিত, জন্ম ১৯৬৩ সালে রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে। আজন্ম সাহিত্যই
জীবনযাপন তাঁর, বিভিন্ন শিল্প ও সাহিত্য কর্মশালার সংগঠক, কবিতাকে অডিওভিশ্যুয়াল মাধ্যমে প্রকাশ করতে নিজের দেশে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন, কবিতা পাঠ করেছেন মেক্সিকো, চিলে, ইউরোপে এবং আমন্ত্রিত কবি হিসেবে বিভিন্ন দেশের বইমেলায়। বিভিন্ন দেশের নতুন কবিদের কবিতা মেলে ধরেন আর্হেতিনীয় রেডিও-টিভিতে, বেশ কিছু সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদিকা এবং "লাকবেরনা"সহ তিনটি অনলাইন পত্রিকার পরিচালিকা। পেয়েছেন আর্হেতিনার সাহিত্য পুরষ্কার আর কলম্বিয়ার সিনে পুরষ্কার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই:
আভেইয়ানেদার কবি, ঘুমাও শব্দ, শান্তির কাব্যগ্রন্হ।
অকাজের জিনিসপত্র (মূল কবিতা: দেসপোহোস)
"যা গেছে তা গেছে, নতুন দিনের ঘুম ভাঙে নতুন রাজত্বের জন্য "
প্রথম কেতজলকোয়াতলের শ্রুতি ( মেহিকো )
আগুনের পাখি
ধারণ করে ছাইয়ের বৃষ্টিপাত
নীরবে
তার চিৎকার
চোখের জল ফেলে
আর ছায়ার পোশাকপরা চোখ তার আগুনমুখী
দিগন্তরেখা
আঁকে তার ভাঙ্গা আলগা কঙ্কাল
একাকী উড়ানের উপচ্ছায়ার
মাঝে
সাদা পালকের ঘুমের সময়
চুরি করে
সূর্যের তুরপুন বানায় তার বাসা
সে এবং তারা পান করে
মরুভূমির তৃষ্ণার্ত জল
ওরা আরও কাছে আসে
দুপ্রান্তের ডানা ঝাপটানি থেকে
বিনিদ্র সকালের আবির্ভাবে
দর্পণে জল (মূল কবিতা: আগুয়া এন এসপেহোস)
মুখের কোনো বয়স নেই
শুধু বয়ে যায়
মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম আঙরাখা
এই অনন্তের
অস্থিরতা ঢেকে দিতে
একটি নিষিদ্ধ ফল
আর ইডেনের বাগান
আমাদের জন্য কেউ কোথাও অপেক্ষা করে না
একটি লোক এবং তার টুপি (মূল কবিতা: উন ওমব্রে ই সু সোমব্রেরো)
একটি লোক তার টুপি নিয়ে
একটি বেহালা, হাতে তার পদচিহ্ন
রাস্তা তাকে রাতবিদ্ধ করে
ছুরির মত তার সান্ধ্যবাতাসে
প্রতিধ্বনি চিবিয়ে খায় তার গলা
মন
তৃষ্ণা
ক্ষুধা
যে নারীর চেয়ে বেশি ভালবাসে ভাগ্যকে
যে তার ঘড়ির পালস ছেড়ে বেরিয়ে আসে
জিরিয়ে নেয় আর হামাগুড়ি দেয়
তার আত্মঘাতী পুতলি নিয়ে
তার প্যান্টের পকেটে
কিছু ভালবাসার গান
সে শূন্য করে দেয়
খরচ করে ফেলে তার রক্ত
উরুসন্ধির মাঝে
বইয়ের প্রতিটা পাতা
চাবি খুঁজে পায় না
নাস্তানাবুদ হয় সে
নৌকায় রাখা বোতলে
চাকুরী হারাবার টরেটক্কা
যথারীতি বৃহস্পতিবার চলে যায়
জুতো (মূল কবিতা: সাপাতোস)
আমার বাম জুতোর
গর্তের ফাঁক দিয়ে
দেখি পৃথিবী
মহান গোপনীয়তার মাঝে
যার শুরু
স্বপ্নের ভিতরে
যেমন আমার সারল্যময় দেওয়াল
অন্যের হৃদয়ে
আর আমার হাতে ধরা কবিতায়
ভাবাবেগের প্রতিবেশ যেন
আমার ডান জুতোর গর্তের ফাঁক দিয়ে
দেখি ভবিষ্যৎ
অর্ধনিমিলিত চোখে
আমার ভূতের অসীম যন্ত্রণা
বিপজ্জনক এক স্বাদ যে ছড়িয়ে পড়ে
হাড়েমজ্জায়
নগ্নতা নিয়ে কিভাবে হাঁটা যায়
দু পায়ের পাতায় ?
আর অর্জন করা যায় পদচিহ্ন
যারা নির্মাণ করে গোধূলিবেলায়
রামধনুময় দিগন্তরেখা
নৈঃশব্দের দমবন্ধ অবস্থায় সম্মতির দৃষ্টিপাত
কিন্তু মানবতা সরে যায় তার
ক্রুশবিদ্ধ গোড়ালি নিয়ে
যখন বৃষ্টি
ধুয়ে দেয় পুরুষের দাগ আর বিস্মৃতি
স্বপ্ন দেখি (মূল কবিতা: ইনদেরাম)
লোকে ভুলেছে স্মৃতি
জীবন ধরে টান মেরে আঁচড়িয়েছিল
যতক্ষণ না হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত
ছেঁটে ফেলেছিল সব সত্যি
শ্বাস নিত তারাহীন রাতের
যন্ত্রণা
শুধু রাবার ও পারদের
উপগ্রহের নীলনকশা
বিকৃত করেছিল চারপাশ
সহবাস করেছিল মাতাল আর অজগর
যতক্ষণ না নিথর হয়েছিল শরীর
ইথালীয় ঘামে স্নাত
এই ভেবে মরে গেল
যে মেঘ চুমু খাচ্ছিল তার ঘুমঘোর চোখে
সপ্তাহ (মূল কবিতা: সেমানাস)
আজ আমার দু চোখে শুক্রবার
অনুভবে অসীম অন্ধকার ক্লান্তি,
চুরমার করছিল আমার হাড়গোড়
এক পরিধেয় মখমল
তুমি অক্ষাংশ দেখেছিলে আমার হাড়মাসে
হাওয়ায় সৃষ্ট আমার ভাষা
ভালবাসার সঙ্গীতের সুর আলগা করে দেয় চাঁদ
যে জানলায় ঝুলে থাকে
সাগরে জন্মানো আমার
শিরা-উপশিরায় শীতের কামড়
যাদের শুধু ছবিতে চিনি
আলোর বিস্ফোরণ আমার দু হাতে
ক্রিস্টালের টুকরো যেন
হারিয়ে যায় হলুদ বইয়ের
ছেঁড়া পাতার আড়ালে
দূর থেকে ভেসে আসে ঘন্টার শব্দ
যে সূর্যাস্ত টেনে নামায়
আর আমি পান করি শুধু রাতের
লুকানো প্রাণরস যা বহন করি কবিতায়
অনিশ্চয়তা (মূল কবিতা: ইনসের্তিদুম্ব্রে)
ছবির জানালার সামনে
নির্ভীকতা খেলে বৃষ্টিতে ভেসে
আসা ক্রিস্টালের সাথে
পালায় দিকশূন্যপুরে
পুরোনো পিলসুজের
মুখোমুখি হলে ।
পরিত্যক্ত এক জীর্ণ বেহালা
সোনা আর টাকা দান ফেলে
জীর্ণ টেবিলে
অন্তহীন খেলা
রক্তাভ মোমবাতির বিস্ফোরণ
উদ্ভাসিত করছিল আমার দেহপল্লব
পবিত্র এক সুর
রাত ভ্যাঙচায় অনিদ্রাকে
যখন অন্ধকার চুমু খায় আমার নিষ্কলুসতাকে
পায়ে পায়ে চলে যায় আমার হারানো অন্তরাত্মার প্রতিকৃতি
বাইরে জেগে ওঠে পার্থিব দুর্দশা
যে কোনো মাসেই স্বপ্ন আশ্রয় নেয় নৈঃশব্দে
নীল টিউলিপের পাপড়ির নিচে
শিক্ষার্থীদের নির্বাসনে
ঘূর্ণি (মূল কবিতা: ভোর্তিসে)
হাত
ঢেকে যায় নুনের
দস্তানায়
আরও দূরে
নরক তুলে ধরে
প্রশ্নের কার্যকারণ
তৃষ্ণা পেশী
ফোলায় সময়ের
কাঁটায়
ভাষা আমার সংহারক
অনুপস্থিতি
ইচ্ছে নামের
আচারবিচার
কবি: হানেত্তে নুনিয়েস কাতালান
দেশ: চিলে
পরিচিতি: জন্ম লাতিন আমেরিকার ছোট্ট দেশ চিলের রাজধানী সান্তিয়াগোয়, ১৯৫৭ সালে। পেশায় পরিবার-পরিকল্পনার পরামর্শদাতা। তাঁর লেখায় পরাবাস্তবতা আর দৈনন্দিন জীবনের কথকতা হাত ধরাধরি করে চলে রূপক এবং চিত্রময়তার পোশাকে। ইতালিতে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'বুয়েনা লেত্রা উনা'য় স্প্যানিশভাষী কবি হিসেবে স্হান পেয়েছে তাঁর কবিতা। তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'স্বপ্নে আমার অস্তিত্ব' অনূদিত হয়েছে ইতালীয় ভাষায়। বর্তমানে তিনি কবিতা লেখেন ভেনেসুয়েলার 'ক্লুবো দে লাস পোয়েতিকাসে' এবং আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের 'কাসা দে লেকতুরা'য়।
মৃতকে চিঠি (মূল কবিতা: কার্তা আ লা মুয়ের্তে)
গাছটা আগের মতোই রিসাইক্লিঙে চলে যায়
অনেকবার ছেড়ে গেছি ওর নগ্ন নির্জন
হাত, আকাশে, হাওয়ায়।
ওর কফিন ফিরে আসে ছোট্ট অঙ্কুরের বেশে
তার দেওয়া প্রতিটা ফুলই নীরবতার অন্তহীন
মুহূর্ত...
চলে যাওয়ার আগে কতবার সে মরার
ভয় পেয়েছে!
এমনই বুঝি মৃতের পথে জীবনের ভ্রমণ!
নিজেও জানে না কখন আমাদেরও মুড়ে ফেলবে
হাওয়ার চাদরে যতক্ষণ না তার ঘুম ভাঙে।
হানেত্তে, তুমি তো শিখেছো যাপন
কিভাবে নক্ষত্র আলো দিয়ে যায় মৃত্যুর ওপার থেকে।
যারা গায় আমার সহচারী শুভেচ্ছাবার্তা
তারা তো একদিন ছায়াভরা গাছের রাজপথ হবেই।
ব্যাগের মধ্যে কি খুঁজছো হানেত্তে ?
তুমি কি কিছু হারিয়েছো নাকি মুক্ত করে দিলে পার্থিব সব...
আজ রাতেই গাছটা পাখা মেলবে, উড়ে যাবে সাগর পেরিয়ে।
আগামীকাল নতুন সূর্যোদয়।
সমাহিত নীরবতা (মূল কবিতা: সিলেনসিও ইনাবিতাদো)
আমার ঘর বেয়ে বয়ে চলে এক নদী
শুনি পাথরে তার বহমান ছলাৎছল
জানলায় এসে বসে
পাখপাখালি
শুনি পাতার মর্মর...
দুর্বোধ্য শব্দমালা, আমি শুনেই চলি।
এক কোণে উড়ে যায় ইঞ্জিনহীন বিমান
তার সুবিশাল ডানাজোড়া
যেন অবরুদ্ধ
আমার ঘরের পাশেই এক অন্তহীন
পথ যেখানে লিলিথ অপেক্ষায় থাকে তার
যে কোনোদিন আসেনি।
পেয়েছি এক অনন্য উপহার, শাশ্বত নীরবতা,
ছোট ছোট নীরবতার টলটলে দীঘি।
যা তোমারও অজানা...
আমি নীরবতা পাঠ করতে পারি
ওরা চলে গেছে তোমায় শূন্য করে
তোমায় বসাই আমার সাঁঝবাতির পাশে।
কবিতাগুলি হানেত্তের কাব্যগ্রন্থ 'মৃত্যুর কবিতাগুচ্ছ' থেকে অনূদিত।
কবিতাগুলি হানেত্তের কাব্যগ্রন্থ 'মৃত্যুর কবিতাগুচ্ছ' থেকে অনূদিত।
কবি: হোসে মারিয়া এগুয়েন
দেশ: পেরু
পরিচিতি: কবির জন্ম রাজধানী লিমায় ১৮৭৪ সালে এবং তিনি মারা যান বারবানকোতে ১৯৪২ এ, যেখানে তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন । অর্থনৈতিক অস্বাচ্ছন্দ্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী । জলরঙে ছবি আঁকতেন । আলোকচিত্ৰশিল্পী হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল । ছিলেন অন্তর্মুখী এবং সংবেদনশীল । তাঁর প্রকাশিত চারটি বই: সিম্বলিকাস, কানসিয়ন দে লাস ফিগুরাস, সোম্ব্রাস এবং রোনদিনেলাস ।
ঘোড়া (মূল কবিতা: এল কাবাইয়ো)
হেঁটে যাচ্ছিল সে পথে
ক্ষয়াটে চাঁদের পানে
আদ্যিকালের যুদ্ধে
মৃত এক ঘোড়া ।
তার আবছায়াময় শিরস্ত্রাণ
কেঁপে ওঠে, পিছলে যায়;
ডেকে ওঠে কর্কশ হ্রেষা
তার দূরবর্তী কণ্ঠস্বরে ।
ব্যারিকেডের ছায়ান্ধকার
কোণে,
শূন্য দৃষ্টিতে,
আতঙ্কে থেমে যায় সে ।
অনেক পরে শোনা যায়
তার পদধ্বনি,
ধূ ধূ পথ
আর ধূলিস্বাৎ প্লাজার মাঝে ।
লাল রাজারা (মূল কবিতা: লোস রেইয়েস রোহোস)
ভোর থেকে
যুদ্ধে রত দুই লাল রাজা
সোনার বর্শা নিয়ে ।
সবুজ গহীন জঙ্গলে
আর নীলচে লাল পাহাড়ে
কাঁপন ধরে বিরাগে ।
শ্যেন্ রাজারা যুদ্ধে রত
নীলচে সোনার
দূরের দেশে ।
ক্যাডমিয়ামের আলোয়
কৃষ্ণকায় রাগী রাজাদের
দেখায় যেন ক্ষুদ্র ।
রাত্রি নামে
যুদ্ধ চলে
শত্রু দুই লাল রাজায় ।
মৃত মানুষেরা (মূল কবিতা: লোস মুয়েরতোস)
বিষাদমাখা আকাশের নীচে
চলছে পথে
মৃত দুই মানুষ
অসীম হাহাকারে ।
নিঃশব্দ বাতাবরণে
হতাশ্বাস পদচারণে
উইলো আর লিলির পানে
মৃত্যু আসে শৈত্য শিহরণে ।
পরিত্যক্ত পথে,
শ্বেতোজ্জ্বল করে,
দিনযাপনের উৎসবে মাততে চেয়ে,
জীবন ভালোবেসে বাঁচতে চেয়ে ।
যাওয়ার পথে কি এক আশায়
মৃত মানুষ খোঁজে,
চোখ জোড়া নিবদ্ধ তার এক কাস্তেয়
নিমগ্ন কার বিষণ্ণ ছায়া ।
কুয়াশাবৃত বন্ধ্যা এক রাতে
যন্ত্রণা আর ভয়ের সাথে,
দূরের পথিকেরা হেঁটে যায়
অন্তহীন পথে ।
অনুবাদক পরিচিতি:
মৈনাক আদক স্প্যানিশ ও ফরাসী ভাষার শিক্ষক, অনুবাদক এবং দোভাষী । স্প্যানিশ ও ফরাসী ভাষায় কবিতা লেখেন লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায়।
জন্ম ১৯৮৪র ১৭ই ডিসেম্বর, হুগলী জেলার গুড়াপে। লেখা শুরু করেন ২০০৪এ কলেজে পড়ার সময়। ২০০৫এ কলকাতার 'তথ্যকেন্দ্র' পত্রিকায় অণুগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ। স্বল্পায়ু সাহিত্যপত্র 'চ' এর সম্পাদনা করেছেন ২ বছর। ২০০৭এ 'কবিতা পাক্ষিক' ও 'কবিতা সীমান্ত' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ। ২০০৭ থেকেই কলকাতায় বসবাস। বিদেশী ভাষাশিক্ষা ও সেই সংক্রান্ত কাজের জন্য ২০০৮ এর মাঝামাঝি থেকে লেখালেখি থেকে দীর্ঘ ছুটি নেওয়া। ২০০৯ থেকে শিক্ষক, অনুবাদক এবং দোভাষী হিসেবে কাজ শুরু, বিভিন্ন অফিস, কর্পোরেট কোম্পানী, ভাষাশিক্ষার অকাদেমি,ইন্ড্রাস্টি হাউসে শিক্ষকতা ও বাণিজ্যিক অনুবাদক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। ২০১০এ দলাই লামার দোভাষী হিসেবে কাজ করে পাদপ্রদীপে আসা, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত কবি, বিশ্বচাম্পিয়ন সাইক্লিস্ট, লেদার কোম্পানীর মালিক, ফুটবল কোচ, ডাক্তার, ভাস্কর, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ভুটানের রাজা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের হয়ে দোভাষীর কাজ করেছেন। ২০১০ থেকে আবার লেখা শুরু, বাংলার সাথে এবার স্প্যানিশ ও ফরাসীতেও । ২০১০এ ফরাসী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক পরিচালিত 'প্রি দ্য জোন এক্রিভাঁ দ্য লাঙ ফ্রঁসেজ'এ একমাত্র ভারতীয় হিসেবে যোগদান এবং তার লেখা রম্যরচনাটি পঞ্চদশ স্হান পায় ( এই প্রতিযোগিতায় বাকি ৪০৯ জন প্রতিযোগীরই মাতৃভাষা ছিল ফরাসী)। পুরস্কারের সাথে ফরাসী সাহিত্যিক নাতালি পোর্তের দীর্ঘ চিঠি আবার তাকে নিয়মিত লেখায় ফিরিয়ে আনে। ২০১১ থেকে আর্হেনতিনার লাক-বেরনা পত্রিকায় কবিতা লেখা শুরু করেন, সেখানেই বাংলা থেকে স্প্যানিশে অনুবাদ করেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশের কিছু কবিতা। ২০১২ থেকে লিখছেন আর্হেনতিনার 'ফিকসিওনেস ই রেয়ালিদাদেস' ও 'ফুয়েগোস দেল সুর' পত্রিকায়, ২০১৪ থেকে স্পেনের 'দিভের্সাস পালাব্রাস' পত্রিকায় ও সালামানকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট 'সালামানকা আরটিভি'তে। এছাড়াও আর্হেনতিনা ও চিলের কিছু আন্তর্জাল পত্রিকায় ( যেমন 'এল সেপ্তিমো সিয়েলো এন লোস ওহোস', 'আপোআ' ) বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ভারতীয় স্থাপত্যশিল্প সম্মন্ধে লিখছেন।
২০১৩ তে আর্হেন্তিনীয় লেখকদের সংস্থা পোয়েতাস আর্হেন্তিনোস উনিদোসেত স্প্যানিশ ভাষায় লেখা একমাত্র বিদেশী সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪তে স্পেনের লেখকদের সংস্থা 'রেদ মুন্দিয়াল দে এসক্রিতেরেস এন এস্পানিয়া' তাকে সদস্যপদ দিয়ে সম্মানিত করে।
২০১০ থেকে ২০১৩ এর মধ্যে কলকাতার ত্রিভাষিক পত্রিকা 'লা কুলতুরা ইস্পানিকা'য় বাংলা অনুবাদের কাজ করেছেন। ২০১৪ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে অনুবাদগ্রন্থ 'পেরুর কবিতা' যেখানে তিনি আরো চারজন অনুবাদকের সাথে কাজ করেছেন। অবসরে ভালোবাসেন আঁকতে, ক্যামেরা নিয়ে প্রকৃতির ছবি তুলতে এবং দেশী-বিদেশী খাবারের স্বাদ নিতে।
মন্তব্যসমূহ